সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এখন ফুটেছে দৃষ্টি নন্দন কচুরীপানা ফুল

132
Spread the love

bdjaজাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : হাওর-বাওর-খাল-বিল আর শস্য-শ্যামল সবুজে ভরপুর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ছোট বড় হাওর,বিল,ঝিল ও বাড়ির পাশের ডোবায় এখন ফুটেছে দৃষ্টি নন্দন কচুরীপানা ফুল। বাংলাদেশের বিল-ঝিলে-হাওর-বাওরে বিভিন্ন জাতের বিভিন্ন রংঙের ফুল ফুঠে থাকে বিভিন্ন ঋতুতে। এসবের মধ্যে কিছু আছে যা আমাদের কাছে সৌন্দর্য বর্ধক,দৃষ্টিনন্দন,উপকারী আর কিছু আছে কোন কাজে আসে না। প্রাকৃতিক সম্পদ কে নিয়মন্ত্রাতিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে সম্পদে পরিনত হয় আবার সঠিক ভাবে কাজে না লাগাতে পারলে জঞ্জালে পরিনত হয়। কচুরিপানা তেমনি একটি বিভিন্ন নদী-নালা-খাল বিল,পুকুর,ডোবায় ও জলাশয়ে ফুটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে দেয়,জৈব সার তৈরীতে সাহায্য করে তেমনি নৌ চলাচলে,ফসল চাষাবাদে ব্যাঘাত সৃষ্টি কর থাকে। কচুরিপানা ও তার ফুল জনপ্রিয় না হলেও বিভিন্ন সময়ে মাছ,গবাদিপশুর খাদ্য ও জৈব সার হিসাবে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। আমাদের দেশের কৃষকগন আলু,পটল সহ বিভিন্ন সবজি চাষে কচুরিপানা ব্যবহার করে থাকে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা জলাশয় থেকে কচুরিপানার ফুল উঠিয়ে খেলা করে। মেয়েরা খোপায় বাঁধে। কচুরিপানার সাতটি প্রজাতি আছে। কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান অবস্থায় বহু বৎসর জীবি জলজ উদ্ভিদ। এর পুরু চকচকে এবং ডিম্বাকৃতির পাতা বিশিষ্ট পানির উপরি ভাগে প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর কান্ড র্দীঘ,বহু বিভক্তি মূল বের হয়। যার রং বেগুনী,সাদা,গোলাপী,হলুদ হয়ে থাকে। একটি পুষ্প থেকে ৯-১৫টি আকর্শনীয় ছয় পাপড়ির ফুলের থোকা বের হয়। কচুরিপানা খুব দ্রুত বংশ বৃদ্বি করে। এটি প্রচুর পরিমানে বীজ তৈরি করে। ৩০ বছর পরও অনকুরোদগম ঘটাতে পারে। কৃষি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করতে সময় লাগে ৭০দিন কিন্তু কচুরিপানা থেকে সময় লাগে ৫৫ দিন। বর্ষা কালে দ্রুত বংশ বৃদ্বি করে। কচুরিপানাতে বড় বড় কুঠুরি থাকে যা পানিতে পরিপূর্ন সামান্য আগাতে সহজে ভেঙ্গে যায়। যানাযায়-কচুরিপানা অর্কিড সাদৃশ্য ফুলের সৌন্দর্যে মুº¦ হয়ে স্কনক নামে এক ব্রাজিলিয়ন পর্যটক ১৮শ শতাব্দীতে বাংলায় নিয়ে আসেন। এর পর থেকেই বাড়তে থাকে ১৯৯০ সালে মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি হাওর-বাওর-জলাশয়ে ভরে যায়। নৌকা চলাচল,পাট,ধান চাষে অযোগ্য হয়ে পরে। এই পরিস্থিতিতে ঐ সময় কার সরকার কচুরিপানা দৌরাত্ম্য হ্রাসে জলাভূমি আইন,স্থানীয় সরকার আইন সহ কয়েকটি আইন সংশোধন করে। ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়। সরকারী পৃষ্টপোশকতা ও ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে কচুরিপানা পরিষ্কার করা কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। ১৯৩৭ সালে সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা কে কচুরিপানা মুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল। অবশেষে ১৯৪৭ সালে বাংলার জলাশয় গুলো কচুরিপানা থেকে মুক্তি লাভ করলেও এখনো বাংলার হাওর-বাওর-বির-ঝিল,পুকর-ডোবা ও মুক্ত জলাশয়ে বহাল তবিয়তে আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলের গ্রামের হাওর,বিলে ও জলাশয় থেকে কৃষকরা কচুরিপানা উঠিয়ে জমিতে ফলানো আলু,পটল সহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যবহার করছে। এখন হাওরে এই কচুরী পানার দৃষ্টি নন্দন ফুল ফুটে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বাম্ভরপুর,ধর্মপাশা,ছাতক,দোয়ারা বাজার,জগন্নাথপুর সহ জেলার হাওরাঞ্চল গুলোকে।


Spread the love