সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশিও সংস্কৃতি

104
Spread the love

Ridoy new  05- 07-14.docজাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ : হারিয়ে যাচেছ হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ থেকে পুতি পাঠ,জারি,সারি,ভাটিয়ালী,কবি ও পালা গান। দেশিও সংস্কৃতির প্রতি উদাসীনতা ও অবহেলার কারনে নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনাই থেকে যাবে আবহমান গ্রাম বাংলার জারি,সারি,ভাটিয়ালী,কবি,পালা গানের আসর। বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসী প্রভাবে নতুন প্রজন্মের রুচির পরিবর্তন আর চাহিদার ফলে এখন আর বসতে দেখা যায় পালাগানের আসর শুনা যায় না পালাগান। বর্তমানে বিদেশি সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্রে কান ফাটানো শব্দে সুরের নামে বেসুরে গান বেশি শোনা যায়। এতে যেমন মাটির টান নেই তেমনি এই গান গুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায় না। অথচ প্রবীনদের মনি কোঠায় আজও উজ্জল হয়ে রযেছে বাংলার লোক সংস্কৃতি পালাগান ও কবি গানের স্মৃতি। তারুন্য এই গান গুলোই ছিল তাদের অন্যতম বিনোদন। হউক অল্প,স্বল্প পরিসরে তবুও গ্রামে যখন কবি গান,পালাগান ও লোক সংস্কৃতি আসর বসতো তখন সেখানে যেন এক উৎসবের জয়জয়কার হতো। শত ব্যস্ততার মাঝেও গ্রামীন জনপদের মানুষ গুলোকে আনন্দ দিতে আয়োজন করা হতো কবি গান,পালাগানের আসর। এজন্য বেঁচে নেওয়া হত খোলা জায়গা, বট গাছের নীচে,খেলার মাঠ সহ বিভিন্ন খোলামেলা স্থানে। খোলা স্থানে চার কোনায় চারটি খুটির মাথায় টিন তুলে তার নিচে বসত গানের আসর। আবার কোন কোন স্থানের লোকজন গঠা করে আয়োজন করে সারা রাত ধরেই চলত এবং শুনত দেশিও সংস্কৃতির মন মাতানো,প্রান জুরানো গান। হারমোনিয়াম,তবলা,কাসা ও ঢোল গলায় ঝুলিয়ে কবিয়ালরা গান গাইত। মুখে মুখে রটে যেত এই গানের আসরের কথা। আর এই গানের আয়োজনের খবর কোন ভাবে জানতে পারলেই আশ পাশের গ্রাম থেকে শ্রোতারা ভিড় জমাত। তারা মন যুগ দিয়ে শুনতেন মা,মাটি,মানুষ কে নিয়ে রচিত দেশিও সংস্কৃতির গান। এসব এখন অতীত হয়ে থাকবে কাগজের পাতায়। বর্তমান প্রজন্মের কেউই এসব গান শুনতে আগ্রহী নয়। অথচ এক সময় সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগর,তাহিরপুর,দিরাই-শাল্লা সহ প্রতিটি উপজেলায় হাওর পাড়ের পাড়ায় পাড়ায় বসত পুতি পাঠের আসর ও শোনা যেত লোক সংস্কৃতির গানের আয়োজন। মঞ্চে এক দল আরেক দলকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করত। উপস্থিত সব বয়সের শ্রোতারা তা উপভোগ করতেন। তাহিরপুরে এখন আছে কিছু গায়ক যারা এখন আগের মত আর পালা গানের আসরে যায় না আর আয়োজন করা হয় না,আগের মত তাদের কে আমন্ত্রন জানানো হয় না। তারা এখন অবহেলা,অনাদরে এক প্রকার মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের মাঝেই এখনও টিকে আছে বাংলার মা,মাটি,মানুষের সুস্থ বিনোদনের গান। শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ভুঁইয়া,শিক্ষক এবং অবিভাবকগন বলেন-বেশি করে কবি,জারি,সারি,ভাটিয়ালী ও পালাগানের আসর বসিয়ে সুস্থ বিনোদন ফিরিয়ে আনতে প্রবীণদের ও নতুন প্রজন্মদের নতুন ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকার কে ও এগিয়ে আসতে হবে তা না হলে ছবির মত,কবিতার মত এই দেশের মা,মাটি,মানুষ কে নিয়ে রচিত পালা গানের কবি থাকবে থাকবে না কবিয়াল। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-ভাটি বাংলা ও হাওরাঞ্চল দেশিও সংস্কৃতি ধারক ও বাহক হিসাবে সৃষ্টির শুরু থেকেই সবার মনের আনন্দ ও দেশের মানুষ কে উজ্জেবিত করে আসছে। তাই দেশিও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য সরকার ও নিজ নিজ এলাকার সংস্কৃতি প্রেমীরা এগিয়ে আসলে দেশিও সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব হবে।


Spread the love