সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচেছ জাতীয় খেলা হাডুডু

52
Spread the love

80জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ : প্রতিটি দেশেরই রয়েছে নিজেস্ব ঐতিয্যবাহী খেলা। আর এই খেলার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠে একটি দেশের একটি দলে একটি এলাকার সাথে সু সম্পর্ক। ইংরেজদের জাতীয় খেলা ক্রিকেট,আমেরিকানদের জাতীয় খেলা বেস বল। আর বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডু/কাবাডি। হাডুডু বা কাবাডি নামের উৎপত্তি স্থল কেউ বলে ফরিদপুর আবার কেউ বলে বরিশাল তবে গ্রাম-গঞ্জে সর্বত এই খেলার প্রচলন আছে। কিন্তু কাল ক্রমেই এই খেলার হারিয়ে যাচেছ সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল থেকে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক ছেলে মেয়েরা হয় তো যানে না জাতীয় খেলা হাডুডু। শুনেছেন তাদের গুরু জনদের কাছ থেকে। আর জানলেও এই খেলাটির প্রতি কোন আকর্ষন নেই যার ফলে কেউ হাডুডু খেলা আয়োজন করে না আর নিজের চোখে দেখেও না। অবশ্য এই খেলাটি নিজের চোখে না দেখা অবিস্বাসের কিছুই নেই। এক সময় গ্রাম গঞ্জের ছেলেদের কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় এই খেলার প্রচলন ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক খেলার চাপে এ খেলা হারিয়েছে তার নিজস্ব স্বকীয়তা। আগে স্কুল,কলেজের বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগীতায় মাঝে মাঝে এই খেলার আয়োজন করা হলেও এখন আর হয় না। কাবাডি চেয়ে হাডুডু শব্দটা বেশ জনপ্রিয় সবার মুখে। খেলার মাঠে কিংবা ধান কাটার মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয় যার ফলে বেশ জমজমাট হয়। গ্রাম বাংলার বৌ,ঝিয়েরা চাঁদনী রাতে এই খেলায় মেতে উঠতে দেখা যেত অতীতে। গ্রাম বাংলায় কাবাডি খেলা হত তবে সঠিক নিয়ম মেনে খেলা হত না। দু-দল ভাগ করতে  পারলেই খেলা শুরু হয়ে যেত। যানাযায়-১৯৭২ সালে হা-ডু-ডু খেলাকে কাবাডি নামকরন করা হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে সফর রত ভারতীয় কাবাডি টেষ্ট খেলে। ভারতীয় দল বাংলাদেশেরে বিভিন্ন জেলার সদরে সাথে কাবাডি টেষ্টে অংশ গ্রহন করে। ১৯৭৮ সালে ভিলাই শহরে বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান ও নেপাল প্রতিনিধি গনের এক বৈঠকে এশিয়ান অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন গঠন করা হয়। ১৯৭৯ সালে ভারতের মুম্বাই,হায়দ্রাবাদ সহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ বনাম ভারত ফিরতি টেষ্ট অনুষ্টিত হয়। ১৯৮০ সালে সফল ভাবে প্রথম এশিয়া কাবাডি চ্যাম্পিয়াশীপের আয়োজন করা হয় এবং তাতে ভারত চ্যাম্পিয়ান ও বাংলাদেশ রার্নাস আপ হয়। বেইজিংয়ে অনুষ্টিত ১৯৯০সালের এশিয়ান গেমসে প্রথম বারের মত কাবাডি অর্ন্তভুক্ত হয়। বাংলাদেশ এতে অংশ গ্রহন করে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে প্রথম বারের মতো রৌপ্য পদক জিতার গৌরব অর্জন করে। যে খেলার এত জনপ্রিয়তা এত গৌরব সে খেলা আজ হারিয়ে যাচেছ কালের গর্ভে। অবাক হবার বিষয় গ্রাম-বাংলায় ও এখন আর আগের মত দেখা যায় না হাডুডু খেলা। সচেতন মহল মনে করেন-আজ স্যাটেলাইটের যুগে এই খেলা সবাই ভুলতে বসেছে। সবাই গৃহ বন্দি,গেমস ছাড়া তাদের খেলার কোন সুযোগ নেই। সুনামগঞ্জ ৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ বলেন-জাতীয় খেলাকে হারিয়ে যেতে দিলে এক সময় নতুন প্রজন্ম শুধু বই পুস্তকে পড়বে কিন্তু চোখে দেখতে পারবে না। যা আমাদের বাংলার দামাল ছেলেদের বিনোদনের উপকরন,যা আমাদের নির্মল আনন্দ দেয় তা ভুলে গেলে চলবে না। এটা আমাদের ঐতিয্য,আমাদের সংস্কৃতি এই খেলা কে নতুন ভাবে নতুন প্রজন্মকে জানানো ও চেনা উচিত। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-শুধু ক্রিকেট,ফুটবল খেলা নিয়েই আমাদের ব্যস্ত থাকলে চলবে না। জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন ও গ্রাম প্রর্যায়ে এই খেলার আয়োজন করে দক্ষ খেলোয়ার আবিস্কার করে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।


Spread the love