সুন্দরগঞ্জ মেধাবী প্রতিবন্ধী বিদ্যুৎ’র কলেজে ভর্তি অনিশ্চিৎ

64
Spread the love

4ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : সুন্দরগঞ্জে অদম্য মেধাবী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বিদ্যুৎ মহন্তের অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা যায়, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বেলকা এম সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন এ প্লাস (জিপিএ-৫) পেয়েও কলেজে ভর্তি হতে পাচ্ছে না অদম্য মেধাবী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বিদ্যুৎ মহন্ত।সে ২০১০ সালে সতীরজান কুমারের ভিটা বে-সরকারী (বর্তমানে সরকারী) প্রাঃ বিদ্যাঃ থেকে প্রাথমিক সমাপনী ও ২০১৩ সালে বেলকা এম সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। এবারে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হতে পাচ্ছে না সে। তার বাবা উপজেলার সতীরজান গ্রামের মানিক চন্দ্র ১৫ বছর পূর্বে নিখোঁজ হন। তখন থেকে মা পূর্ণিমা রানী মহন্ত ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ বেলকা বাজার সংলগ্ন উক্ত বেলকা এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব স্থান তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পরিত্যাক্ত মাঠে বাস করছে। নানা বীরমুক্তিযোদ্ধা ভবেশ চন্দ্র মহন্ত ১জন বাস্তহীন হওয়ায় অতিকষ্টে দিনাতিপাত করেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। ৩ ভাই-বোনের মধ্যে বিদ্যুৎ বড়, ছোট ভাই বিশ্বনাথ অভাবের তাড়নায় বেলকা বাজারে অন্যার হোটেলে কাজ করে, ছোট বোন বিথি রানী মহন্ত বেলকা ১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনিতে অধ্যায়ন করছে, আর মা পূর্ণিমা রানী অন্যের জমিতে দিন মজুর করে জীবিকা নির্বাহ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও বিদ্যুৎ মহন্ত বসে না থেকে প্রাইভেট পড়ানোকে পূঁজি করে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। সে অভাবের কারণে কোন ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার ইচ্ছাকে বাদ দিয়ে সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবার ইচ্ছা পোষণ করে। কিন্তু কলেজে ভর্তি ফি বাবদ টাকা দিতে না পেয়ে তার ভর্তি অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে অধ্যক্ষ একেএম হাবিব সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন- ছেলেটি বাম হাত দিয়ে লেখে, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী বটে। তাকে ভর্তি হতে কলেজের পক্ষ থেকে সুযোগ- সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি। বুধবার তাকে কাগজ-পত্র নিয়ে ভর্তি হবার জন্য কলেজে আসতে বলেছি।


Spread the love