সুন্দরবনকে বাঁচাতে উপক‚লের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে লংমার্চের তৃতীয় দিনে খুলনার জনসভায় বক্তারা

83
Spread the love

bfyখুলনা প্রতিনিধি : পশুর নদীর তীরে সুন্দরবনের আঙ্গিনায় রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি করবে। ক্রমাগত কয়লা পরিবহনের ফলে সুন্দরবনের বাতাস ও পানি মারাত্মক দূষণের শিকার হবে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ডলফিন ও নানা প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের ঐতিহ্য এ বনভ‚মি রক্ষার্থে সুন্দরবন ধ্বংসকারী এ প্রকল্প বাতিলের দাবি তুলেছে উপক‚লের কোটি মানুষ। সুন্দরবন রক্ষায় বিশ্বের পরিবেশবাদীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আহুত সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকা থেকে বাগেরহাট অভিমুখে লংমার্চের তৃতীয় দিনে খুলনায় এ আয়োজন। সংগঠনের জেলা কমিটির আহŸায়ক ও জেলা সিপিবি’র সভাপতি ডাঃ মনোজ দাস সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচীব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিপিবি’র সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ওয়ার্কার্স পার্টির বিমল বিশ্বাস, জনসংহতির জোনায়েদ সাকী, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিষ্ট লীগের আজিজুর রহমান, বাসদের (মার্কস বাদী) মানষ কুন্ডু, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির শামসুল আলম, ভাষানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সিদ্দিকুল ইসলাম, স্থানীয় নেতা এসএ রশিদ, মোস্তফা খালিদ খসরু, গৌর চন্দ্র মন্ডল, মোঃ রূহুল আমিন, শেখ মফিদুল ইসলাম ও মনিরুল হক বাচ্চু। সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, সুন্দরবনের জন্য ধ্বংসাত্মক রামপাল ও ওরিয়েন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে উপক‚লের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সুন্দরবন হারালে হাজার বছরেও তা ফিরে পাওয়া যাবেনা। সরকারকে দেয়া ইউনেস্কোর চিঠির কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল ও বনসংলগ্ন এলাকায় দূষণকারী শিল্প কলকারখানা স্থাপন করলে বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদকে বিপন্ন করবে। ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সাউদার্ন স্টার-৭ নামক তেলবাহী ট্যাংকার শেলা নদীতে ডুবে জয়মনি, নন্দবালা, আন্দারমানিক ও মৃগমারি এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, জাতীয় কমিটির লং মার্চ আজ রবিবার সকালে খুলনা থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ভারতের পরিবেশবিদদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলও লং মার্চে অংশ নিচ্ছেন। ফুলতলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় ফুলতলার চৌরঙ্গীতে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে জনযাত্রা বহরকে স্বাগত জানান ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া। পরে স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, “দেশি বিদেশি লুটেরাদের জিম্মি হবার জন্য দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। দেশের সম্পদ শতভাগ দেশের মানুষের কাজে লাগাতে হবে, সুন্দরবন ও বাংলাদেশ লুন্ঠন এবং মুনাফার বলি হবে না। সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে আমাদের জনযাত্রা যশোরে পুলিশের বাঁধা অতিক্রম করে আমরা এখানে পৌঁছেছি। সকল বাঁধা অতিক্রম করে আমরা মাতৃরূপী সুন্দরবন রক্ষা করবোই।” কমিটির উপজেলা আহবায়ক গাজী নওশের আলী’র সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কমঃ আব্দুল মালেক মোল্লার পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বিপ্লবীর গণসংহতির সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, কেন্দ্রীয় নেতা সহিদুল ইসলাম সবুজ, ইয়াছিন মিয়া, সাইফুল হক, বজলুর রশীদ ফিরোজ, কামরুল আহম্মেদ, শ্রমিক নেতা কমঃ হাফিজুর রহমান ভূইয়া, মানষ নন্দী প্রমুখ।


Spread the love