সোনাতলায় ভাঙছে দুই বান্ধবীর সংসার

81
Spread the love

image_2080_263005বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় প্রায় এক বছর আগে মেয়ে থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয় উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের কোয়ালীপাড়া গ্রামের সোনা মিয়ার ৬নং কন্যা ইতি খাতুন। সে প্রায় ৯ মাস আগে তার এক কলেজপড়ুয়া বান্ধবী সাবিনা আকতারকে বিয়ে করে। বিয়ের বছর খানেক যেতে না যেতেই তাদের সংসার ভাঙতে বসেছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কোয়ালীপাড়া গ্রামের সোনা মিয়ার কন্যা ও সৈয়দ আহম্মদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ইতি খাতুন বছর খানেক আগে পুরুষে রূপান্তরিত হয়। এরপর তার নাম রাখা হয় ইদ্রিস আলী। এ ঘটনার মাস তিনেক পর গত ৯ নভেম্বর তার এক বান্ধবী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে ১ লাখ টাকা দেন মোহরানায় বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের কাটলেও বাদ সাধে সাবিনার পরিবারের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার ইদ্রিস আলী তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে শ্বশুরালয়ে চিকিৎসা করার জন্য নিয়ে আসে। এরপর ইদ্রিস আলী তার স্ত্রীকে রেখে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এরপর গত শুক্রবার সকালে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসতে বলে। ইদ্রিস আলী শ্বশুর বাড়িতে এলে সাবিনার বড় ভাই ছান্নু মিয়া একটি ঘরে তালাবদ্ধ রেখে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় ইদ্রিস আলী চিৎকার দিলে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পাশের ঘর থেকে চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ইদ্রিসকে রক্ষা করে। এরপর ইদ্রিসের আত্মীয়-স্বজন এসে ওই বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও সাবিনা তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছে। এ বিষয়ে ইদ্রিস আলী জানান, আমি বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ মানুষ। আমার স্ত্রীর প্রয়োজন। তাই আমি এক সময় আমার ক্লোজ বান্ধবী সাবিনাকে বিয়ে করি। তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিই। আমাদের দু’জনের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্বশুরালয়ের লোকজন। তার মা ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে জোর করে আটকে রেখে আমাদের ঘর ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে সাবিনার আত্মীয়-স্বজনরা জানায়, ইতি কখনও ইদ্রিস হয়নি। এটা ছিল তার সাজানো নাটক। ডাক্তারি কোনো রিপোর্ট অধ্যবধি দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে। এ ব্যাপারে ইদ্রিস আলীর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, মেয়েরা তার অভিভাবকের উপর নির্ভরশীল। পিতা-মাতা যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমি মেনে নেব। গতকাল শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা অবধি তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেনি। তবে যে কোনো সময় তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সাবিনার পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে।


Spread the love