সৎপুত্রের সাথে প্রেম মেয়েকে খুন করলেন চ্যানেলের মালিক

121
Spread the love

image_2073_262012বিডিজাহান ডেস্ক : ইন্দ্রানী মুকের্জিয়া। ২০০২ সালের দিকে ভারতের বিখ্যাত টিভি নেটওয়ার্ক স্টার ইন্ডিয়ায় মানবসমপদ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। সে সময়ই স্টার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী পিটার মুকের্জিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক হয় তার। পরে বিয়ে করেন তারা। ইন্দ্রানী ছিলেন পিটারের দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু পিটার ছিলেন ইন্দ্রানীর তৃতীয় স্বামী। স্টার ইন্ডিয়া ত্যাগ করার পর স্বামীর সঙ্গে মিলে আরেকটি মিডিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করেন ইন্দ্রানী। সে মিডিয়া নেটওয়ার্কেরই অধীনে রয়েছে জনপ্রিয় বলিউড গানের চ্যানেল-নাইন এক্স। গত পরশু তাকে নিজ মেয়েকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশ! এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ভারতে। চমকে উঠার মতো তথ্য হলো, ইন্দ্রানীকে তার মেয়ে শীনা বোরাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও এতদিন ধরে সবাই জানতেন শীনা বোরা ছিল তার ‘বোন’! চার বছর আগে প্রথম গুজব বের হয়, শীনা বোরা তার আগের ঘরের মেয়ে। কিন্তু তখনও হালে পানি পায়নি সেসব গুজব। ২০১২ সাল থেকে শীনাকে কেউ দেখেনি। তখনই তাকে খুন করা হয়। কিন্তু পরশু পর্যন্ত দুনিয়া জানতো শীনা যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করছেন। কিন্তু সবকিছুই পাল্টে গেল একটি মাত্র ঘটনায়। ইন্দ্রানীর গাড়িচালক শ্যাম রায়কে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এমন তথ্য, যা তদন্তকারীদেরও স্তব্ধ করে দেয়। শ্যাম রায় পুলিশকে জানায়, শীনা বোরা ইন্দ্রানীর বোন নয়, মেয়ে। তাকে চার বছর আগে ইন্দ্রানী নিজে শ্যামসহ কয়েকজন সহযোগীকে দিয়ে খুন করে। মৃত্যুর সময় শীনার বয়স ছিল ২৪ বছর। নিজের নানা-নানীর কাছে তিনি বড় হন। কিন্তু দুনিয়ার সবাই তখনও জানতো, এ নানা-নানী ছিল তার পিতা-মাতা! মেয়ে শীনাকে শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হননি ইন্দ্রানী। বরং লাশ পুড়িয়ে পুঁতে ফেলেন মুম্বই শহর থেকে ৮৪ কিলোমিটার দূরে রাইগাডের গভীর জঙ্গলের এক খামারবাড়ির ভেতরে। শ্যাম রায় পুলিশকে ওই স্থানে নিয়েও যান। প্রথমে এ তথ্য বিশ্বাস করেনি পুলিশ। তবে রাইগাড পুলিশকে তথ্যটি যাচাই করতে বলে মুম্বই পুলিশ। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, শ্যামা রায়ের তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্থানে পাওয়া যায় একটি দেহাবশেষ! এ তথ্যে চমকে উঠে মুম্বই পুলিশ। ওই দেহাবশেষ এখন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মুম্বইয়ে নেয়া হয়েছে। এ খবর পেয়ে খোদ মুম্বই পুলিশ প্রধান রাকেশ মারিয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করেন ইন্দ্রানীকে। ইন্দ্রানী অনেকক্ষণ অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে খুনের কথা স্বীকার করেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর কলকাতা থেকে ইন্দ্রানীর দ্বিতীয় স্বামী সঞ্জীব খান্নাকেও আটক করে পুলিশ।


Spread the love