হারিয়ে যাচ্ছে ময়মনসিংহের বনাঞ্চলের বানর প্রজাতি

117
Spread the love

monkiময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের মধুপুর বনাঞ্চলঘেঁষা ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চল। একসময় হরিণ, ভাল্লুক, মেছোবাঘ, বাঘডাসা, হনুমান, বানর, শিয়াল, সজারো ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। কালের বিবর্তনে ও বন্যদস্যুদের গাছ কেটে উজার করায় হারিয়ে গেছে বন্যপ্রাণী। থেকে যায় শুধু বনের শোভাবর্ধনকারী বানর। মাত্র বছর চারেক আগেও সন্তোষপুর বিট অফিসকে ঘিরে ছিল প্রায় পাঁচ শতাধিক বানর। আর এখন এর সংখ্যা প্রায় শতাধিক। বনজঙ্গল উজাড় ও খাদ্যের অভাবে বানরগুলোর সংখ্যা দিনদিন কমে আসছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে সন্তোষপুর বনবিট ও রাবার প্রকল্প। নিপুণ শিল্পীর তৈরী ১ হাজার ৩৬ একর এলাকা জুড়ে রয়েছে রাবার বাগান। ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ও ১নং নাওগাও ইউনিয়নে রয়েছে ২ হাজার ৮শ ৬৩ দশমিক ১৪ একর এলাকা জুড়ে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বনাঞ্চল। রাবার প্রকল্প থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার লালমাটির পথ সন্তোষপুর বনবিট অফিস। বর্তমানে বিট অফিসকে ঘিরে রয়েছে প্রায় আড়াই শতাধিক বানর। বানরগুলোর খাবারের একমাত্র ভরসা দর্শনার্থী। দশনার্থী দেখলে চারদিক থেকে খাবারের আশায় তাদের কে ঘিরে ফেলে। বিটঅফিস এর সাথে ভ্রাম্যমান দুইটি দোকান বসে। সে দোকানগুলো থেকে দর্শনার্থীরা কলা, বাদাম, মুড়ি, চানাচুর ও সাগরি কিনে দিলে কিছুটা আহার জুটে বানরগুলোর। সরজমিনে দেখা যায় দর্শনার্থীরা বানরগুলোকে খাবার দিচ্ছে। আর বানরগুলো মাথায়, কাঁধে বসে খাবার নিচ্ছে। কাউকে আচর বা কামড় দিচ্ছে না। বানর এর সাথে দুষ্টামি করলে কামড় এর ভয় দেখাচ্ছে। ৪/৫টি বানরকে দেখা যায় গর্ভবতী। ৪/৫টি বানরকে দেখা যায় বাচ্ছা দিয়েছে। কিছু বানর দেখা যায় রোগে আক্রান্ত। তবে দর্শনার্থীদের দেয়া খাবারের পরিমান অনেক কম। ভ্রাম্যমান দোকানদার হানিফ মিয়া বলেন, গড়ে একেক জন প্রতিদিন ৭/৮ শ টাকার খাবার বিক্রি করেন তারা। তারমধ্যে বানরের খাবার মুড়ি, চানাচুর, সাগরী, বাদাম, কলা, বিস্কুট বিক্রি হয় ৩০০/৪০০ টাকা। সন্তোষপুর কান্দুর বাজারের ডা: মোঃ সাইফুল জানান, বানরগুলো যখন ক্ষুধার তাড়নায় মানুষের বাড়ি বাড়ি ছুটে যায় তখন লাঠি, দা ইত্যাদি দিয়ে আঘাত করে। সন্তোষপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, সন্তোষপুর বিট ও রাবার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শোভাবর্ধনকারী বানরগুলোর জন্য সরকারী ভাবে বনের ভিতর খাবারের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন। স্থানীয় আয়ুব আলী জানান, বনের এ শোভাবর্ধনকারীকে বাঁচাতে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে বেঁচে যেতে পারে আল্লাহর একটি সৃষ্টিজীব।


Spread the love