হোঁচট খেল শাকিব-পরীর ধূমকেতু

253
Spread the love

বিনোদন প্রতিবেদক : মুক্তির পর বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে শফিক হাসান পরিচালিত শাকিব খান ও পরীমনি জুটির দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ধূমকেতু’। ছবি মুক্তির দ্বিতীয় দিন থেকেই হলগুলো দর্শক খরায় ভুগছে। অথচ পরিচালক শফিক হাসান বলছেন ‘ধূমকেতু’ দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। সুপারহিট ছবি হতে যাচ্ছে। বেশ কিছু গণমাধ্যমেও তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন ছবিটিকে সুপারহিট দাবি করে। আর ফেসবুকেও বারবার পোস্ট করছেন প্রথমদিন হলে আসা দর্শকদের কিছু ছবি। শুধু তাই নয়, তিনি এও বলছেন তার ছবিটির সাফল্যের জন্য এফডিসিতে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন গুণী নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। শফিক হাসানের কাছে ‘ধূমকেতু’ ছবির হল রিপোর্ট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছবিটি প্রথম সপ্তাহ থেকেই খুব ভালো ব্যবসা করছে। এটি বছরের সেরা ব্যবসা সফল ছবি হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। ছবির সাফল্যের জন্য এফডিসি থেকে অনেকেই ‘সংবর্ধনা’ দিয়েছেন আমাকে। সিনিয়র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান ভাইও ‘ধূমকেতু’ দেখার পর আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। আমার নির্মাণের বেশ প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আগামীতে যেন আমি আবার ছবি নির্মাণ করি।’ তবে এফডিসিতে খোঁজ নিয়ে শফিক হাসানকে ‘সংবর্ধনা’ দেয়ার কোনো প্রমাণ মিলেনি। বরং তার ছবির সাফল্যের মিথ্যে প্রচারে বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন একাধিক পরিচালক। তাদের মতে, শাকিবের সেরা ফ্লপ ছবিগুলোর তালিকায় অন্যতম হয়ে রইলো ‘ধূমকেতু’। এমনকি নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন পরিচালক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। তাই ‘ধূমকেতু’ ছবিটি এখনো দেখা হয়নি। আর সংবর্ধানার তো প্রশ্নই আসেনা। শাফিক হাসান আমার কাছে ধূমকেতু ছবি মুক্তির সময় দোয়া চাইতে এসেছিলেন। আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি। বলেছি ভালো করে ছবি বানালে অবশ্যই চলবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এফিডিসিতে ছবিটি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনাই শুনেছি। ছবিটির সেল রিপোর্ট খুবই খারাপ।’

প্রসঙ্গত, ৯ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ১০৩টি হলে মুক্তি পায় ‘ধূমকেতু’ ছবিটি। ছবিতে শাকিব খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন পরীমনি, তানহা তাসনিয়া। অনেক প্রত্যাশা ছিলো চলতি বছরে শাকিবের শেষ ছবিটি নিয়ে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘ধূমকেতু’।

গতকাল বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) পূর্ণিমা, মধুমিতা, শাহীন, জোনাকীসহ আরো বেশ কিছু সিনেমা হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে হলে আসছেন না দর্শক। এতে করে হল মালিকরা বেশ মোটা অংকের লোকসান গুনতে চলেছেন। শাকিব খানের জন্য বিগ বাজেটে ছবি নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দর্শক নেই হলে। একই চিত্রের খবর পাওয়া গেছে ঢাকার বাইরের হলগুলোতেও।

শাকিব-পরীর ছবিটির এই ভরাডুবির কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ছবির দুর্বল নির্মাণ ও মানহীন গল্প। ছবিটির সংলাপেও কোনো শৈল্পিকতা নেই। গানগুলোর দৃশ্যায়নও বেশ দুর্বল। আর হ্যাপির নাম বেচে চালানো আইটেম গানটির কথা, সুর ও ছবির সঙ্গে গানটির অসামঞ্জস্যতা বেশ বিরক্তিকর।

হল মালিকদের দাবি, যতো প্রচারণাই হোক সিনেমা মুক্তির পর একটি ছবির সবচেয়ে বড় প্রচারক হয় দর্শক। ছবিটি দেখে ভালো লাগলে সেই দর্শক আরো দুইজনকে উৎসাহিত করেন। কিন্তু ‘ধূমকেতু’ ছবিটি হলে দর্শক টানতে পারেনি। যারা ছবিটি দেখতে এসেছেন তারা হতাশ হয়েছেন। ফিরে গিয়ে তারা অন্য দর্শকদেরও অনুৎসাহিত করেছেন।

এরইমধ্যে এফডিসি, কাকরাইলসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো ‘ধূমকেতু’র সমালোচনায় মুখর। বেশ ক’জন পরিচালক বলছেন, বছরের শেষটা ‘ধূমকেতু’ দিয়ে ভালো কাটবে বলে প্রত্যাশা ছিলো। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। তবে এই ব্যর্থতাকে অনেকেই হুমকি বলে মানছেন। তারা বলছেন, ‘ধূমকেতু’ ফ্লপ হওয়ায় হল মালিকরা এখন কম বাজেটে ছবি চালানোর জন্য নানা অজুহাতের সুযোগ পাবেন। হলগুলো এখন দাবি করবে- যেখানে শাকিবের ছবিই চলে না সেখানে অন্য নায়কদের ছবি বেশি বাজেটে নিতে চাইবে না। আর এইসব কিছুর জন্য ছবির পরিচালক শফিক হাসানকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তারা।

এদিকে শাকিব-পরী জুটির প্রথম ছবির ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ছবিটিও যখন হালে পানি পেল না তখন নির্মাতারাও এই জুটি থেকে থাকছেন নিরাপদ দূরত্বে।


Spread the love