১০ কোটি টাকার ভবন উদ্বোধনের আগেই ১০ স্থানে পানি চুঁয়ায়

122
Spread the love

suসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন উদ্বোধন হবার আগেই ১০ স্থানে পানি চুঁয়ে চুঁয়ে ভিতরে পড়ে। উপরের ছাদে পানি আটকা থাকে। মঞ্চের এক কোণেও পানি পড়ে। অবশ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, ‘সকল ত্র“টি সেরেই আমরা ভবন হস্তান্তর করবো’।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মধ্যবর্তী এলাকার স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের পুকুর ভরাট করে প্রায় এক একর জমির ওপর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শিল্পকলা একাডেমী ভবন (তখনকার দরপত্রে উলে¬খ ছিল হাসন একাডেমী ভবন) নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় সাত কোটি টাকা। এর মধ্যে জমিক্রয় ও মাটি ভরাটে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ করে কাজের চলতি বিল উত্তোলন করে সবকিছু গুটিয়ে চলে যায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন। পরে ঐ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় শিল্পানুরাগীদের দাবি ও বিশিষ্টজনের চেষ্টায় গত বছর (২০১৪ ইংরেজি সনে) আবার দরপত্র আহ্বান করে ভবনটির কাজ শুরু হয় এবং ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কেএমপি ভবনটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব নেয়। ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ প্রায়। রংয়ের কাজ শেষ করে এখন বিদ্যুতের কাজ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঐ ভবনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অডিটোরিয়াম মঞ্চের ডান দিকে একটি স্থানে ফুটা ফুটা পানি পড়ে। দুতলায় উঠার সময় ডান দিকের জানালার নিচ দিয়ে পানি চুঁইয়ে দেওয়াল ভিজে গেছে। দুতলার দক্ষিণ পাশের জানালার নিচের দেওয়ালেরও একই অবস্থা। হলের মঞ্চের বাম দিকের প্রবেশ দ্বারের ছাদ চুইয়েও পানি পড়ে, বাম দিকের সিঁড়ির ছাউনি দিয়ে পানি চুঁয়ায়। ৩য় তলার বাম দিকের জানালার নিচ দিয়ে পানি চুঁয়ায়, একই অবস্থা ৩য় তলার বিদ্যুৎ বক্সের ভেতরেও। ৩য় তলার ৩ টি অফিস কক্ষের সব কয়টির ছাদে পানি চুঁয়ায়। চার তলার ছাদে উঠে দেখা গেছে। ছাদে পানি আটকা থাকে। এতো ব্যয়বহুল একটি ভবনের কাজ শেষের পর্যায়ে এসে এই অবস্থা দেখে হতাশ হয়েছেন স্থানীয় শিল্পানুরাগীরা।
জেলা কালচারাল কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বলেন,‘ভবনের কিছু ত্রুটির বিষয় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে’।
জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘আমি সুনামগঞ্জে যোগদানের আগেই ভবনের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল, আমি আসার পর যেসব কাজ হয়েছে আমি কঠিনভাবে মনিটরিং করার চেষ্টা করেছি। ভবনে কোন ত্র“টিই মেনে নেওয়া হবে না, সকল ত্র“টি সেরেই ভবন হস্তান্তর করতে হবে।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কেএমপির প্রোপাইটার মনির আহমদ বলেন,‘কিছু স্থান দিয়ে পানি চুঁয়ানোর কথা আমাকে জানানো হয়েছে, আমরা এখনো ভবন বুঝিয়ে দেইনি, সকল ত্র“টি সেরেই ভবন হস্তান্তর করা হবে।’


Spread the love