১২ বছর অপেক্ষায় ছিলাম

108
Spread the love

road-15-2-thumbnail-1নোমান মাহফুজ : পৌর কর্তৃপক্ষের অপেক্ষায় আর না থেকে গোলাপগঞ্জে গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়ক মেরামত করে চলাচলের উপযুক্ত করেছে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নিজগঞ্জ ও সরস্বতী বড়বাড়ী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলে জানা যায়। বছরের পর বছর পৌর কর্তৃপক্ষকে সড়ক মেরামতের অনুরোধ জানিয়েও কোন ফল না পাওয়ায় গ্রামবাসী মিলে মিশে কেউ টাকা দিয়ে কেউ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কেউ অক্লান্ত শ্রমএই মেরামত কাজ করেন। স্থানীয় হাজী জোয়াইদ আলী জামেয়া ইসলামিয়া বানাত মহিলা মাদ্রসার প্রিন্সিপাল শাহ ওলিউর রহমান জানান, টানাবৃষ্টিপাতে সড়ক ডুবে গিয়ে চলাচল করতে না পারায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল। গ্রামবাসী সড়ক মেরামতের ফলে আবারো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রথম শ্রেণীর গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের ন্যায়গোলাপগঞ্জ বাজার বাইপাস সড়ক নামে পরিচিতি পাওয়া ( সরস্বতী-নিজগঞ্জ-বড়বাড়ী-দাড়ীপাতন পশ্চিমপাড়া) প্রায় র্অধকিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ ১২ বছর থেকে মেরামতের অভাবে শতাধীক গর্ত তেরী হয়ে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এই সড়কের আশে পাশে কোন ড্রেন না থাকায় দিনের পর দিন পানি জমে জলাবদ্ধতায় সড়ক ডুবে ভোগান্তীর মাত্রা ছিল সহ্যের অতীত। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার লোক চলাচল করেন। গোলাপগঞ্জ হাজী জছির আলী সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী জোয়াইদ আলী জামেয়া ইসলামিয়া বানাত মহিলা মাদ্রসা, সরস্বতী মহিলা মাদ্রাসা, রানাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বেলাশাহ মোকাম মসজিদ. দাড়ীপাতন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, সরস্বতী নিজগঞ্জ জামে মসজিদের
মুসল্লী সহ শতাধীক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা মূসা ও পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে দফায় দফায় রাস্তাটি মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের অনুরুধ জানানোর পরও বরাদ্ধ আসলে কাজ হবে বলে পার করেছেন প্রায় একযুগ। পৌরকর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই সড়ক মেরামতের আর কোন লক্ষন নেই বুজতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেন। গত ১৮ আগষ্ট থেকে ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত এই মেরামত কাজ চলে।কাজ চলাকালীন সময়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে তরুন সমাজসেবী আজাদ আহমদ ও ইকবাল আহমদ জানান, ১২বছর থেকে অপেক্ষায় ছিলাম এবার নিজেরাই নিজেদের সড়ক মেরামত করেছি। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পৌরসভার নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নগর সমন্বয় কমিটির সদস্য(টিএলসিসি) সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রায় ১০-১৫ টি টিএলসিসি সমন্বয় সভায় এই সড়ক মেরামত ও ড্রেন নির্মান করার প্রস্তাব পেশ করা হলে উপস্থিত সকল সদস্যই তা সর্মথন করেন। পরবর্তীতে তা বাস্তবরূপ পায়না অদৃশ্য কারনে, তাই এসব ক্ষোভ থেকে আর টিএলসিসি সভায় যাইনা। আমি (মাহবুব) পৌরপ্রকৌশলীকে অতীতে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন মেয়র প্রকল্প থেকে ৪নং ওয়ার্ডের ব্যাপারটি কেটে দেন আমার কিছু করার নেই। যোগাযোগ করা হলে পৌরসভার প্রকৌশলী যুগেশ্বর চ্যাটার্জি জানান, সড়কটির আশেপাশে বাসা-বাড়ী নির্মাণের ফলে রাস্তাটি নীচু হয়ে পানি জমে যায়। এই সড়কের জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও অনুমোদন না হওয়ায় কাজ করা যাচ্ছেনা। পৌরমেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেন, কিছু সংখ্যক দুস্কৃতিকারীর কারনে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এই সড়কে কাজ করতে ১ কোটি টাকার প্রয়োজন বরাদ্ধ আসলে কাজ শুরু হবে। মিডিয়ায় আসা পৌর মেয়রের এ বক্তব্যটির বিষয়ে পূনরায় পৌরসভার নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নগর সমন্বয় কমিটির সদস্য(টিএলসিসি) মাহবুবুর রহমান চৌধুরীরকে অবহিত করলে তিনি জানান, এটি উনার মুখস্ত সংলাপ, সড়কের পাশে পর্যাপ্ত পরিমানে জায়গা মালিকরা ড্রেনের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন সুতরাং কেউ বাধা দিচ্ছে এটা ঠিক নয়। তাছাড়া কেউ যদি বাধা দিতো তাহলে এলাকাবাসী সড়ক মেরামত কাজ করল কি করে।


Spread the love