১ গ্লাসে ৭ স্তরের রঙিন চা

188
Spread the love

31.1.14..31যাযাবর পথিক : রমেশ রামগৌড় (৪০) এক গ্লাসে ৭ স্তরের রঙিন চা-এর আবিস্কারক। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের রমেশের পরিচয়ের পরিধি শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট, সারাদেশ ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় প্রতিদিনই হাজার-হাজার নারী-পুরুষ রঙিন চায়ের যাদুকরি টানে ছুটে আসছেন শ্রীমঙ্গলে। রমেশ কোন চা বিজ্ঞানী নন। অতি সাধারন একজন চা দোকানদার। ‘নীলকন্ঠ’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে নিরবদি তিনি চিন্তা করেন আমাদের দৈনন্দিন পানীয় ধুমায়িত চা-কে কত নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়। এক, দু, তিন, চার, পাঁচ, ছয় পেরিয়ে রমেশ রামগৌড় এক গ্লাসে এখন সাত স্তরের চা উদ্ভাবন করে চা প্রিয়দের মনের মানুষে পরিণত হয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে, এ চা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাকে লন্ডন, আমেরিকা, ইটালী যাবার প্রস্তাব করলেও রমেশ সে প্রস্তাবে সাড়া দেননি। উজ্জল ভবিষ্যতের হাতছানিও তাকে প্রলুব্ধ করতে পারেনি। রমেশ রামগৌড় জানান, ময়মনসিং জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার আটানি বাজার গ্রামে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসার অংশিদার ছিলেন। তার ব্যবসায়ীক পার্টনার পুরো ব্যবসার অর্থ আত্মসাৎ করে। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ভাগ্য বদলের লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ মাত্র ১ হাজার ৫ শত টাকা নিয়ে শ্রীমঙ্গলে আসেন। রামনগর মণিপুরী পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে শহরের নতুন বাজারে একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে তিনি শ্রীমঙ্গলে কর্মজীবন শুরু করেন। ওই বছরের আগষ্ট মাসে দোকানের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। সে দোকানের লাভ তার সংসার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় চিন্তায় পড়েন রমেশ রামগৌড়। নিজের চিন্তা ও একাগ্রতায় অল্প দিনেই তিনি এক গ্লাসে দু রঙা চা আবিস্কার করে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। এরপর আস্তে আস্তে তিনি এক গøাসে চায়ের স্তর বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তিনি এক গ্লাসে সাত স্তরের চা তৈরি করছেন। রমেশ দুঃখ করে বলেন, কাকিয়াছড়া চা বাগানে থাকাবস্থায় একটি কুচক্রী মহলের ইন্দনে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই)-এর ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা তার একাধিক স্তরের চা নিয়ে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেন। কোন ক্ষতিকর উপাদান না থাকা সত্তে¡ও কাকিয়াছড়া চা বাগান থেকে তার দোকানটি উঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে রমেশ রামগৌড় রামনগর মণিপুরী পাড়ায় ‘নীলকন্ঠ’ স্থানান্তর করেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, বিদেশী কুটনীতিক, বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা তার দোকানে একাধিক স্তরের চা পানে আসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি ‘নীলকন্ঠ’-তে ভিড় লেগে থাকে। সৌখিন চা পায়ী মানুষের ভিড় সামলাতে হিমসিম খেতে হয় রমেশের। এর উপর তার সাথে একটু গল্প করা, তার সাথে ছবি তোলার প্রচষ্টা চলে দিনমান। ‘নীলকন্ঠ’ ও শ্রীমঙ্গল হয়ে উঠে যেন একে অপরের পরিপূরক। ‘নীলকন্ঠ’ চা কেবিনের চা পান না করলে শ্রীমঙ্গলে ভ্রমন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমানে শহরতলীর কালীঘাট সড়কে ১৪ বিজিবি’র (রাইফেল ব্যাটালিয়নের) ক্যান্টিনে ‘নীলকন্ঠ’র অবস্থান। রমেশের এক গ্লাসে একাধিক চা তৈরির রহস্য কি জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়টি সম্পূর্ণই তার চিন্তা-চেতনার ফসল। কৌশলের মাধ্যমে একাধিক স্তরের চা তিনি তৈরি করছেন। এসব চা তৈরি করতে কোন রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র ক্লোন টি এবং বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রনে তিনি এক গ্লাসে একাধিক স্তরের চা তৈরি করে থাকেন। তবে কিভাবে এবং কি প্রক্রিয়ায় তিনি এক গøাসে একাধিক স্তরের চা তৈরি করেন তা জানাতে অনিহা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে তার ‘নীলকন্ঠ’ চা ক্যাবিনে সাত লেয়ারের চা ৭০ টাকা, ছয় লেয়ারের চা ৬০ টাকা, পাঁচ লেয়ারের চা ৫০ টাকা, চার লেয়ারের চা ৪০ টাকা, তিন লেয়ারের চা ২০ টাকা, দুই লেয়ারের চা ১০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ ১০ টাকা, গ্রীন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা, লেবু চা ৫ টাকা ও লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমেশের আবিস্কার একাধিক স্তরের চা নিয়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে একাধিক সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে।


Spread the love