৪ গাড়ি ও ১ হেলিকপ্টার বোঝাই করে টাকা নিয়ে পালিয়েছেন গনি কাবুল বিমানবন্দরে গুলিতে নিহত ৫

39
Spread the love

অনলাইন ডেস্ক : তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি আফগানরাও দেশ ছাড়ছেন। ফলে কাবুল বিমানবন্দরে অনেক বেশি ভিড় ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ফাঁকা গুলিও ছুঁড়েছেন নিজের দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করতে আসা মার্কিন সেনারা। এতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৬ আগস্ট) বিমানবন্দরটির প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে গুলিতে এই নিহতের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। আফগান রাজধানী ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলোতে শত শত মানুষ জোর করে প্রবেশের সময় তারা নিহত হন।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কাবুল বিমান বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সোমবার গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদমধ্যমটি বলছে, তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি ওই সংবাদে।
এদিকে, এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, গুলিতে নিহত ৫ জনের মরদেহ একটি গাড়িতে তুলতে দেখেছেন তিনি। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা কি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন নাকি ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এর আগে কাবুল বিমানবন্দরে আফগানিস্তান ছাড়তে চাওয়া মানুষের ঢেউ উপচে পড়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে মার্কিন সেনারা। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মার্কিন সেনারা এখন কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে মার্কিন সেনারা।
কাবুল থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সবধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বার্তায় জানায়, ‘লুটপাট ও চুরি ঠেকাতে হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলছে না।’
এর আগে তালেবানের কাবুল দখলের পর বিভিন্ন দেশ তাদের কূটনীতিকদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। একইসাথে বিপুল বেসামরিক আফগানও তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রসহ ভিন্ন দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করছেন তারা।
দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।
এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান। পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি। মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে। ৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় কাবুল দখল করে তালেবান যোদ্ধারা।
৪ গাড়ি ও ১ হেলিকপ্টার বোঝাই করে টাকা নিয়ে পালিয়েছেন গনি
আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফ গনি সাথে করে অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থ নিয়ে গেছেন। চারটি গাড়ি ও একটি হেলিকপ্টার বোঝাই করে নগদ অর্থ তিনি নিয়ে গেছেন। কিন্তু তার কাছে আরো বেশি টাকা ছিল। একটি হেলিকপ্টারে টাকা বোঝাই করার পরও যেসব টাকা আরো কোথাও রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো তিনি রেখে গেছেন। আরআইএ নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
কাবুলে রুশ দূতাবাসের মুখপাত্র নিকিতা ইশচেনকোর উদ্ধৃতি দিয়ে আরআইএ জানায়, চারটি গাড়ি ছিল অর্থে ভর্তি। তারা একটি হেলিকপ্টারেও টাকা ভর্তি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ফলে তারা অনেক টাকা টারমাকে ফেলে যেতে বাধ্য হন।
তিনি রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে, আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে তাজিকিস্তানে আশ্রয় পেলেন না আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। বিমান ঘুরিয়ে ওমান পৌঁছেছেন তিনি। ওমান সরকার তাকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে কি না, এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। তবে সোমবার ওমানেই রয়েছেন তিনি।
একসময় আমেরিকার নাগরিকত্ব ছিল গনির। ওমান থেকে তিনি আমেরিকা রওনা দিতে পারেন বলে জানিয়েছে ওই সংবাদসংস্থা।
একসময় দীর্ঘদিন আমেরিকার নাগরিক ছিলেন গনি। ২০১৪ সালে আফগানিস্তনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন তিনি। তবে, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান আমেরিকার নাগরিক। তাই শেষ পর্যন্ত গনি আমেরিকাতেই আশ্রয় নিতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।


Spread the love