৯৯ বছর বয়সেও ভাতা পাননি তমেজান

76
Spread the love

gtfyআবু ইসহাক, সাঁথিয়া :  ৯৯ বছর ৪ মাস ২৪ দিন বয়সেও বয়স্ক ভাতা পায়নি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আত্রাইশুকা গ্রামের মৃত নিফাজ প্রামানিকের স্ত্রী তমিজান। প্রচন্ড শীতে ছিলো না শীত নিবারণের বস্ত্র, রোগে অসুস্থ হলেও পায় না ঔষুধ।
জানা যায় উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়াডের আত্রাইশুকা গ্রামে দারিদ্র সন্তানদের সাথে বসবাস করেন বিধবা তমিজান। সন্তানদের সংসার স্বচ্ছল না থাকায় প্রতিনিয়ত এক ঘর থেকে অন্য ঘরে সুখের সন্ধানে ও এক মুঠো ভাতের জন্য দৌড়াতে হয় অসুস্থ বৃদ্ধাকে। দিনের আলোতে এক ছেলে থেকে অন্য ছেলের ঘরে দৌড়াতে দৌড়াতে বৃদ্ধা এখন ক্লান্ত। তার ভোটার আইডি কাড নং (৭৬১৭২৬৯৫৭৭০৫৫) অনুযায়ী জন্ম ১৬ অক্টোবর ১৯১৬ সালে। ৯৯ বছর বয়সেও সে বয়স্ক অথবা বিধবা কোন ভাতাও পাননি। অথচ সরকার কর্তৃক ৬৫ বছর বয়সে বয়স্ক ভাতা নির্ধারন করলেও তমিজান বেওয়ার ভাগ্যে তা জোটেনি। বয়সের ভরে নুব্জ চলতে পারেন না, রাস্তায় দেখা হতেই এ প্রতিবেদককে ডেকে বললেন, তুই কিডারে। আমার ওষধ নাই। ভালো কিছ খাইবের পারিনে। ঠান্ডায় মেলা কষ্ট করছি। তোরা আমার কিছু দিবি না। ভাতা পান নি, বলতেই তিনি জানান, ভাতা তাতা দিবি কিডা ? অথচ উক্ত গ্রাম ছাড়াও উপজেলায় তার চেয়ে অনেক কম বয়সীরা বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা  জানান, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদেরকে  টাকা দিলেই বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়। হতদরিদ্র তমিজান কাউকে টাকা না দেওয়ায় তার ভাগ্যে কার্ড জোটে নাই। তমিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করতে চান কত বছর বয়স হলে সে বয়স্ক ভাতা পাবে?
ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের বয়স্ক ও বিধবা কার্ড করার দায়িত্ব মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতাদের। আমি দায়ী না।
সাঁথিয়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার জানান, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেম্বার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কার্ড বাছাই করে থাকেন। তারা কেন এত বয়স্ক একটি মানুষকে কার্ডের অর্ন্তভুক্ত করেনি তা খতিয়ে দেখতে হবে। পরবর্তীতে সুযোগ হলে বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হবে।


Spread the love