সস্তা দামের কারনে ডানডি শিশু ও ছাত্রদের কাছে জনপ্রিয়এক নেশাদ্রব্য

184

fileমোঃ তোফায়েল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : কিছুদিন আগের কথা। এক বড় ভাইয়ের কাছে শুনেছি। তাই পাঠকের জানার জন্য  উদ্দেশ্য করে লিখা?  সারাদিন বিভিন্ন কাজে বাইরে ঘুরে  ক্লান্তির পর বাড়ি ফিরছি। এমন সময়ে শুনেছি লাম। আপনারা সবাই জানেন,  ঢাকা শহরে জ্যাম থাকবেই।  এই সিগন্যালে বসে থাকার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারা সকলেই অবগত আছেন, গাড়ি দাঁড়ালেই ক্রমাগত কিছু ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চাইতে থাকবে। তারা এমন কি গাড়ির কাঁচেও টোকা দেয়। আমি ভিক্ষাবৃত্তিকে একে বাড়তেই  সমর্থন করিনা তাই সবাইকে টাকা সাহায্যও দেইনা। কিন্তু তাকিয়ে দেখলাম একটি দশ এগারো বছর বয়সি ছেলে শিশু দাঁড়িয়ে আছে।ও কিছু বলতে চাইছে। কী করুন তার চাহনি ও মলিন তার  মুখ বলে বুঝানো যাবেনা ।  গায়ে পোষাক বলতে শুধু একটি ছিন্ন হাফপ্যান্ট। আমি কি এক মায়ায় গাড়ির জানালা খুলি। ছেলেটি জানালো সে সারাদিন কিছু খায়নি, আমি যেন তাকে দুইটা টাকা দেই। আমি একটু বড় নোট তার হাতে তুলে দিলাম এবং সে সেটা নিয়ে দৌড়ে চলে গেল। আমি মন খারাপ করে বসে আছি। যে বর ভাইয়ের কথা বলছিলাম,  তিনি আমাকে এক ভয়াবহ খবর শোনালেন। আমি তাঁকে ঘটনা  বাস্তব  প্রমান করতে বললাম।  ভাই গাড়ি ঘুড়িয়ে রাস্তার উল্টোদিকে রোড ডিভাইডার ধরে ধীরে গাড়ি চালাতে লাগলেন। ততক্ষনে সন্ধ্যা নেমেছে। অল্প  স্বল্প আলোয় রোডের  উপর দশ থেকে তের চৌদ্দ বছর বয়সি পাঁচটি ছেলে বসে আছে। আহ্লাদ করে ওদের নাম দেয়া হয়েছে পথশিশু। প্রত্যেকের হাতে পলিথিন। পলিথিনের ভেতরে কিছু একটা আছে যা ঠিক দৃশ্যমান নয়। মাঝে মাঝেই সেই পলিথিনের ভেতর তারা নাকসহ মুখ ডুবিয়ে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস নিচ্ছে। অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হতে পারে, শিশুগুলো পলিথিনের ভেতর বমি করছে। আসল ঘটনা হলো, এই পলিথিনের ভেতর আছে ডানডি। ডানডি মানে একধরনের নেশাজাতদ্রব্য। ডানডি একটি লোকাল নাম। এর উপাদান জুতা, কাঠ, রাবার জোড়া দেয়ার গ্লু। আশি নব্বই টাকায় কিনতে পাওয়া যায় এক কৌটা গ্লু। ওরা দশ টাকায় কিছু পরিমান গ্লু কিনে পলিথিনের ব্যাগে ভরে নেয়। এই গ্লু ইনহেল করলে একধরনের কড়া নেশা হয়। দামে সস্তা এবং সহজলভ্যতার কারনে ডানডি এধরনের শিশুদের কাছে জনপ্রিয় এক নেশাদ্রব্য।  শুধুমাত্র যে এসব  এলাকায় এই দৃশ্য দেখতে পাবেন তা না। কারওয়ান বাজার, কমলাপুর রেলস্টেশন, রমনা পার্ক এলাকায় পথ শিশুদেরকে নেশাশক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমনকি বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় এসব হয়ে থাকে।এতে যে, শুধু পথশিশু তা কিন্তু নয়।  ইদানিং দেখা মিলছে স্কুল কলেজের ছেলেদের। এখানেই শেষ নয় এখন প্রত্নত গ্রামের ছেলেদের কাছে ও এই ডানডি বা ডান্ডু। সন্ধ্যা নামতেই সারা দেশের জেলা শহরে সহ গ্রামে এর ছেলেরা পলিথিনের বেগ নিয়ে চলে যা অলি গলি বা একটু ফাকাঁ নিরিবিলি জায়গায়। কিন্তু এর শেষ কথায়। এসব  ঘটনা যে প্রশাসনের অগোচরে ঘটছে তা কিন্তু  না। কিন্তু সব দেখেশুনেও সকলে নিশ্চুপ। বাংলাদেশে  ইউনিসেফের ২০০৫ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ি শুধু ঢাকা শহরে পথশিশুদের সংখা ২৪৯,২০০। বাব মায়ের মধ্যে অনৈক্য, বহু ভাইবোন, থাকার জন্য এমনকি বস্তিতেও কোনো জায়গা না পাওয়ায় ওরা পথে থাকে। অনেকে পরিবারসহ জীবীকার অন্বেষণে শহরে আসে। কিছুদিন অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে টিকতে না পেরে পথে নেমে আসে। এইসব শিশুদের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রনিত হয়েছে। বড় বড় সভা সমিতি, সেমিনার হয়েছে। বাস্তবে ওদের অবস্থা তথৈবচ। সারাদিন পথে পথে ভিক্ষা করে অথবা নীতিমালা বহির্ভূত কোন শ্রমের সাথে জড়িত। কেউবা ব্যবহৃত হচ্ছে মাদক দ্রব্য বিক্রির কাজে। আবার কেউ নিজ স্বার্থে এদেরকে ঝুকিপুর্ন রাজনৈতিক কাজে লাগাচ্ছে। শিক্ষার সুবিধা বঞ্চিত এইসব শিশুরা নিজেরা নিজেরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে থাকে। খাবার ভাগ করে খায়। লড়াই ঝগরা করে, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে। সন্ধার পর নেশা করে আর রাতে রাস্তার  অথবা কোনো ঝলমলে শপিং মলের বাইরে শক্ত কংক্রিটের উপর ঘুমিয়ে থাকে। স্কুলে যাওয়ার বাহুল্য তাদের কল্পনার বাহিরে। শুধু নথিপত্রে নয়। কেতাবে লেখা দলিল নয় বাস্তবিকভাবেই চাই শিশুর উপযোগী পরিবেশ। প্রতিটি শিশুর জন্য বাসযোগ্য একটি আগামীর স্বপ্ন দেখি। ক্ষুধা দারিদ্র এবং নেশাবিহীন এক সুন্দর আগামীর। ওরা পৃথিবীতে আসে অসুস্থ পরিবেশে। বর্ধীত হয় অসুস্থ পরিবেশে। পরিনামে এভাবে  জন্ম নেয় এক অসুস্থ জাতি