মেধাবী জিয়াউরের মেডিক্যালে ভর্তির দায়িত্ব নিলেন প্রবাসী সৈয়দ শাকিল

169

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা : সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মেধাবী জিয়াউর রহমানের ভর্তির দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান প্রবাসী সৈয়দ শাকিল। জিয়াউরের মেডিক্যালে ভর্তির সব ব্যয়ভার ‘সৈয়দ শাকিল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ থেকে বহন করবেন তিনি।
এ বছর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ‘১৭৯০’ সিরিয়ালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন জিয়াউর। তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
‘সুযোগ পেয়েও মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত জিয়াউরের’ এই শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অনলাইন পত্রিকায় (শনিবার) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তা নজরে আসে জার্মান প্রবাসী সৈয়দ শাকিলের। প্রতিবেদন দেখার পর তিনি জিয়াউরের মেডিকেলে ভর্তির অর্থভার বহনে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে জিয়াউর ও তার বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভর্তির জন্য পুরো অর্থ সহযোগিতার কথা জানানো হয়।
জিয়াউর রহমান সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটি গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে। তার বাবা কুমিল্লায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় জিয়াউর। ছোট ভাই মাজেদুল ইসলাম পূর্ব ছাপরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
প্রবাসী সৈয়দ শাকিল বলেন, ‘মেধাবী জিয়াউরকে নিয়ে ফেসবুক ও অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসে। অর্থের অভাবে জিয়াউরের মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত খবরটি আমার মনে নাড়া দেয়। তখন সিদ্ধান্ত নেই জিয়াউরের মেডিক্যালে ভর্তির অর্থ বহনের। ভর্তির নির্ধারিত ফিসহ প্রয়োজনীয় খরচের টাকা দ্রুত জিয়াউরের বাবা-মার কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া জিয়াউরের সার্বিক খোঁজখবর রাখাসহ প্রয়োজনে তাকে আরও সহযোগিতার চেষ্টা করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে থাকলেও দেশের মানুষের সুখে, দুঃখে সবার পাশে দাঁড়ানো ও অসহায়দের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করি। দেশের বিভিন্ন এলাকার অনেক হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা ও বৃত্তি দিয়ে আসছি। পথ শিশু ছাড়াও আমার প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দরিদ্র শিশুরা লেখাপড়া করে আসছে। সৈয়দ শাকিল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
এদিকে ছেলের ভর্তির সব খরচ বহনের আশ্বাসের খবর শুনে কিছুটা স্বস্তিতে বাবা আলম মিয়া। তিনি বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে হয। দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। ভিটেমাটি ছাড়া কোনও সম্পদ নেই। জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাই কুমিল্লা শহরে। খেয়ে না খেয়ে ছেলে লেখাপড়া করছে। ছেলের মেডিকেলে ভর্তির জন্য যিনি দাঁড়িয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
মা জিন্না বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছেলে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করেছে। মেডিক্যালে ভর্তির টাকা জোগাড় নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। অবশেষে প্রবাসী ব্যক্তি সৈয়দ শাকিল সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। আল্লাহ তার মঙ্গল করুক।’
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে নানা কষ্টে লেখাপড়া করছি। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় অর্থের অভাবসহ অনেক সংগ্রাম করে পড়াশুনা চালিয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। বাবা-মার সাহস, শিক্ষকদের অন্তরিকতা ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
জিয়াউর আরও বলেন, ‘মেডিক্যালে ভর্তির জন্য আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় প্রবাসী সৈয়দ শাকিলের প্রতি কৃজ্ঞতা জানাই। সবার কাছে দোয়া চাই, লেখাপড়া শেষে যেন একজন আদর্শ চিকিৎসক হতে পারি। অসহায় ও মানবতার সেবায় কাজ করাসহ আমি যেন অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে পারি।’
জিয়াউরের স্কুল শিক্ষক রাজনীতিবীদ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অর্থের অভাবে প্রাইভেট বা কোচিং করতে পারেনি জিয়াউর। শিক্ষকদের অন্তরিকত সহযোগিতায় মাধ্যমিক গন্ডি পার হতে হয় জিয়াউরকে। জিয়াউরকে যিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার মঙ্গল কামনা করি। তবে জিয়াউরের পরবর্তী পড়াশুনার খরচের জন্য আরও দানশীল ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে জিয়াউর তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় জিয়াউর। এবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উর্ত্তীণ হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় জিয়াউর।