ঘরে শান্তি নেই

122

ছয়ফুল আলম পারুল : একদিন একটা ক্লান্ত কুকুর চন্দনদা’র বাড়িতে এসে উপস্থিত হলো। কুকুরটার স্বাস্থ্য আর গলায় বাঁধা বেল্ট দেখে চন্দনদা আন্দাজ করে নিলেন যে এটা খুব ভালো ঘরের কুত্তা আর সে সেখানে খুব যত্নে পালিত হয়েছে।
কুকুরটা খুব শান্ত ভঙ্গিতে চন্দনদা’র কাছে এগিয়ে এলো। চন্দনদা কুকুরটার মাথায় সস্নেহে হাত বুলিয়ে
দিলেন। কুকুরটা চন্দনদাকে অনুসরণ করে ঘরের ভিতর ঢুকে গেল।
তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে ঘরের কোনে একটা জায়গা নির্বাচন করে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ল। এক ঘন্টা পর ঘুম থেকে উঠে কুকুরটা চলে গেল।
পরদিন ঠিক সেই সময়ে কুকুরটা আবার চন্দনদা’র কাছে এলো, লেজ নেড়ে-নেড়ে ঘরের ভিতর ঢুকে ঠিক আগের জায়গায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল আর এক ঘন্টা পর ঘুম থেকে উঠে চলে গেল।
এভাবে কুকুরটা বেশ কয়েক দিন যাওয়া আসার পর কুকুরের মালিক কে, সেটা জানার জন্য চন্দনদা উদগ্রীব হলেন। তিনি কুকুরের গলার বেল্টে একটা চিরকুট বেঁধে দিলেন।
তাতে লিখে দিলেন — “এই সুন্দর কুকুরটার মালিক কে, সেটা জানতে চাই। আর কুকুরের মালিককে অবগত করতে চাই যে এই কুকুরটা রোজ বিকেল বেলা আমার ঘরে আসে শুধু একটা ঘন্টা ঘুমানোর জন্য।”
পরদিন বিকেলবেলা যখন কুকুরটা ঘুমোনোর জন্য চন্দনদা’র ঘরে এলো, তখন দেখা গেল তার গলায় আরেকটা চিরকুট।
তাতে লেখা — “এই কুকুরটি আমার। আমার স্ত্রীর দিনরাত অনর্গল কথা বলার যন্ত্রনায় আমরা ঘরের কেউ ভালো করে ঘুমোতে পারছি না। আমার কুকুরটা যে ঘুমোনোর জন্য একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছে, তাতে আমি খুশি।
আপনি অনুমতি দিলে কাল থেকে আমিও কুকুরের সাথে আপনার ঘরে আসতে চাই।