শহীদ আসাদ দিবস আজ

20

অনলাইন ডেস্ক : ঊনসত্তরের মহান গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আসাদ শহীদ হন। তার স্মরণে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তার অসামান্য অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে সবসময় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদের নাম অমর হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। পরবর্তীতে সে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি (২০ জানুয়ারি) একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৯ সালের এদিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে রাজপথে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে।’ তিনি বলেন, ‘সেদিনের সেই আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পাকিস্তানি স্বৈরসরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে গর্জে উঠে সারা বাংলার মানুষ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে রাজপথে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহীদ হন আসাদুজ্জামান এবং অনেকে আহত হন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দমন-পীড়নে বাংলার মানুষ যখন দিশেহারা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয়-দফা তখন বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। ছয়-দফা হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের দাবি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছয়-দফার স্বপক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখে আতঙ্কিত সামরিক জান্তা আইয়ূব খান বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সমধিক পরিচিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পরিণত হন নিপীড়িত ও নির্যাতিত বাঙালির মুক্তির মূর্ত প্রতীক।’
বাণীতে তিনি শহীদ আসাদ-মতিউরসহ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
শহীদ আসাদ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান। আসাদ শহীদ হওয়ার পর ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আইয়ুব খানের। এরপরই স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ, জাতীয় গণফ্রন্ট সকরায় ৮ টায় এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে।