“হায় প্রেম-হায় ভালোবাসা” –

55

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ : গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মিষ্টি। বাবা আব্দুর রশিদ অভাবের তাড়নায় রাজধানী ঢাকায় শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মিষ্টি বড়। মাধ্যমিকে ভাল রেজাল্ট করে উচ্চ মাধ্যমিকে এখন ভর্তির বিষয়ে পরিবারের চিন্তার নেই শেষ। মিষ্টি গত বছর এসএসসি পাস করেছে। দরিদ্র পরিবারের কন্যা বলে নিকটবর্তী উপজেলার পাশের শহরের একটি সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। এখন কলেজে যথারীতি ক্লাস চলছে। বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্ট হওয়ায় কলেজের ক্লাসের পাশাপশি প্রাইভেট/কোচিং জরুরি। কিন্তু নিজ গ্রাম হতে কলেজ আসা-যাওয়া পরিবহন ব্যয় বহুত ও সময়ের ব্যাপার বটে। অবশেষে বৃষ্টি কলেজের ক’জন বান্ধবীর সাথে পরিচয় হন। এদিকে ঘনিষ্ট বান্ধবী সুমি, রুমি সাথে একটি বাসার রুম ভাড়া নেয়। এখন কলেজের কাছেই আবাসিকে ভাড়া বাসায় থাকা ও প্রাইভেট। মিষ্টিদের সম্পর্ক আরো মিষ্টি হলো এবং সুযোগ-সুবিধা ভরপুর তিন বান্ধবীর। কলেজের প্রথম প্রেমের অফার। বড়লোকের ছেলে মামুন। হ্যানসাম বডি। মিষ্টি ফিরিয়ে দিলেন না প্রথম প্রেম। এই আবেগের বয়স। ভালবেসে ভাল থাকতে চান সবাই। মানুষ বাঁচে না প্রেম ছাড়া। দুনিয়াটা প্রেমেরি কারখানা। এভাবে কেটে যাচ্ছে মিষ্টির আবেগের প্রহর…! দিনের পর… দিন। মাসের পর… মাস। ইদানীং দেহহীন প্রেম নেই বল্লেই চলে। ভালবাসা ত হৃদয়ের বিষয়। কিন্তু, প্রেম ত শরীর কেন্দ্রীক। সেটা বৈধ কিংবা অবৈধ হউক। শরীরকে অতিক্রম করেই প্রেমের যাত্রায় মিষ্টি ও মামুনের ব্যতিক্রম নয়। “পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু থেকে থাকে… এরই নাম- ভালবাসা, এরই নাম প্রেম…!” মধূর জীবন অতিক্রম করছে মিষ্টি-মামুন। অনাবিল আদরে আদরে সুখের তরীতে ভাসছে যৌবনের পদার্পণেই। তিন মাস পর….. মামুন তুমি আমাকে কত…% ভালবাসো? এতদিন পর… কেন এমন প্রশ্ন (?) মিষ্টি! নারে…. তাই বলছি সোনা। “কি করে তোকে বলবো…. তুই কে আমার….?” পরের দিন….. মামুন তুমি আমার মনকে ভালোবাসো নাকি শুধুই শরীরকে….? এসব কি বলছো মিষ্টি! হঠাৎ আবোল-তাবোল বকছো কেন রে….? না আমি ঠিকই বলছি। এভাবে মান-অভিমান দিনের পর দিন বেড়েই চলছে ইদানীং মিষ্টি-মামুনের প্রেমের জীবনে। মেয়েরা লোভী তা তাদের জন্মগত স্বভাব হিসেবে স্রষ্টা তাদের এ পৃথিবীতে পাঠাইছেন অনেককেই। এরা এক পেয়ে সুখি নয়। চায় বহু জনে। এখন আর মিষ্টি-মামুনের ভালবাসা আগের মত নেই। মিষ্টিতে পিপঁড়া ধরার মতই যেন…! মাসের পর মাস কাটছে। অভিমান ও অভিযোগ বেড়েই চলছে দু’জনের প্রেমে। মামুন প্রেম বেশ কয়েক মাস হলো। সরল বিশ্বাসে ও কৌশলে সব শেষ প্রেমে সাগরে নেমে। কিছুই আর বাঁকি নেই আমাদের সম্পর্কের মধ্যেকার। প্রেমের সমাপ্তি পরিণয়ে শেষ করো। বাঁকি বিয়ের। দাবি এখন বিয়ের। ওদিকে সমাজিক রীতি মানতে মিষ্টি উঠে পড়ে লেগেছে মামুনের সাথে। কিন্তু, প্রতারণা ও কৌশলে মিষ্টির সব মধূ চোষা শেষ মামুন ও মাহফুজের। আমি তোমাকে বিয়ে করবো কি করে ভেবেছিলে মিষ্টি? তাহলে কি সময় কাটানোর জন্য আমার সাথে প্রেম করেছিলে তুমি! মাথায় যেন বাজ ভেঙ্গে পড়লো মিষ্টির। মন ভাঙা মানে মসজিদ ভাঙা সমান কথা। মাহফুজও আগের মত কথা বলে না মিষ্টির সাথে। এখন বড়ই নিরুপায় মিষ্টি। ভালবাসা পাপ। জানা ছিল না মিষ্টির। হতাশায় কাটছে এখন প্রতিটি ক্ষণ…! সরল বিশ্বাসে ঠাকায় পুরুষ! ইস্! মিষ্টি এখন প্রায় ৩/৪ মাসের আন্তঃসত্তা! সোমবার সকাল ৯টা। মামুন তুমি আমাকে কি বিয়ে করবে না? আমি আর পারছি না। আমার বুকের ব্যথা আর হৃদয়ের আর্তনাদ কেউ দেখে না। আজ আমার জীবন মরণের দিন। হয় জীবন তুমি রাখবে। নাতো তোমার জন্য এ জীবন শেষ করবো। গরিব হয়ে এত অবহেলা! প্রেম কি গরিব ধনী মানে? বলো! আজ দিনের সূর্যঅস্ত পর্যন্ত তুমি আমার। তোমার জন্য বেঁচে থাকবো হয়তো….? তোমার শেষ জবাব চাই – চাই-ই? সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রি ৯টা। মামুনের আশায় আর না। জবাব নেই- ফোনে কোন এসএমএস কিংবা কল নেই! আবেগ আর ধরে রাখতে না পেরে…। মিষ্টি এখন পরপারের পথে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রুমের বান্ধবীরা আজ বাহিরে। এটাই সুযোগ। হাতের চামড়া কেটে রক্ত বের করে মামুন ও মাহফুজের নাম লেখা হয়ে গেল। “তোরাই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী?” অবশেষে… রুমের দরজা-জানালা ছিটকিনি লাগানো হলো। বুকের ওড়না খুলে সিলিং ফানের সাথে এঁটে বাঁধা হলো। এখন মিষ্টির এই নিষ্ঠুর প্রেমের বলি লাশে পরিণত হতে চলছে…! ঝুলন্ত ওড়না গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে এখন মিষ্টি…! “পৃথিবীতে জ্বলে-পুড়ে মরার মত… যদি কিছু থেকে থাকে। এরই নাম- ভালোবাসা, এরই নাম- প্রেম।’ “হায়রে….. ভালবাসা। হায়রে…. প্রেম।” মিষ্টি এখন অন্য জগতের বাসিন্দা! এ কেমন ভালবাসা মামুন ও মাহফুজের…..? এখন অবিরত কাঁদছে মিষ্টির মা, বাবা, একমাত্র ছোট ভাই। কাঁদছে বন্ধু-বান্ধবীরা। শোকাহত আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসী।