ঝালকাঠিতে পিপি হত্যা: ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল

13

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবি পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাই কোর্ট।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আসামিরা হলেন- বেল্লাল হোসেন, আবু শাহাদাৎ তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান, মুরাদ হোসেন, ছগির হোসেন ও আমীর হোসেন। বেল্লাল হোসেন ছাড়া বাকিরা কারাগারে।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহাজান ও কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
বশির আহমেদ জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে হাই কোর্ট পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল জেএমবি ক্যাডাররা গুলি করে হত্যা করে হায়দার হোসাইনকে। তিনি ২০০৫ সালে জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় নিহত ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সোহেল আহম্মেদ এবং জগন্নাথ পাড়ে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমানসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলা পরিচালনার সময়ই হায়দার হোসাইনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল জেএমবি।
শায়খ আবদুর রহমানসহ সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২১ মার্চ। এর ২০ দিন পর হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যা করে জেএমবির ক্যাডাররা।
২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির একটি আদালত পিপি হত্যা মামলায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাই কোর্টে আসে। এছাড়াও আসামিদের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। সেসব ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে রায় দিলেন হাই কোর্ট।