একাকীত্বের গল্প, এলোমেলো চিন্তা, বাস্তবে না হোক, আমাদের হৃদয়ে, কল্পনাতে হতেই পারে… পর্ব-২০

77

নয়ন বাবু : “ডিপ্রেশন ও আত্মহত্যা” ডিপ্রেশন’ বলতে সম্ভবত মানসিক হতাশাকে বোঝায়। ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক উভয় জীবনে মানুষ নানা রকম মানসিক হতাশায় ভোগে। প্রতিটি মানুষের জীবনেই এক সময় এ ‘ডিপ্রেশন’ নামক শব্দটা আসে। আমরা খুব অল্পতেই হতাশ হয়ে যাই। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ডিপ্রেশন নামক শব্দের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। মনে হয়, এই বুঝি মরে যাবো, আর মনে হয় বাঁচবো না! অথচ আমি একটা সময় ‘ডিপ্রেশন’ শব্দটার মানেই বুঝতাম না! মাস কয়েক আগেও ডিপ্রেশনের ব্যপারে জানতে চেয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটা পোস্ট করেছিলাম। সেদিন ফ্রেন্ডলিস্টের একেক জন একেক ভাবে ডিপ্রেশনের সংজ্ঞা দিয়েছিলো আমায়। দুঃখ-কষ্ট ছাড়া মানুষ পৃথিবীতে সম্ভবত নেই। যে মানুষটা অসময়ে আপনার পাশে এসে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়, আপনি ভাবেন তার হয়তো কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু দেখা যায়, দিনশেষে সে মানুষটিও একরাশ হতাশা আর কষ্ট নিয়ে বিছানায় নিজের গা লাগায়। আমি যখন কখনো কখনো জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে যাই, ফেসবুকে হতাশমূলক স্ট্যাটাস আপডেট করি, তখন প্রিয় বন্ধু আমাকে সাহস যোগায়। আমার ভেঙে পড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হাজারো মোটিভেশনাল কথা শোনায়। হয়তো কিছু সময়ের জন্য নিজেকে স্বাভাবিক করে তুলে ফেলি। কিন্তু বন্ধু যখন ‘ডিপ্রেশন’ নামক শব্দে ডুবে যেতে দেখি, যখন দেখি প্রিয় বন্ধুটিও নিজেকে ব্যর্থ দাবি করে জীবনের উপর বিরক্তি প্রকাশ করছে, তখন রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কেউ কেউ নিজের জীবনের প্রতি এতই বিরক্ত হয় যে, ভাবে এই বুঝি আত্মহত্যা করে ফেলবো! হয়তো আত্মহত্যা-ই হতে পারে হাজারো ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির পথ। পরক্ষনেই আবার ভাবনায় আসে, আমার মতো আর কতজন এভাবে আত্মহত্যা করে মুক্তি পেতে পারবে? আত্মহত্যা কি সত্যিই সব সমস্যার সমাধান? সম্ভবত দূর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি লাভের উপায় “আত্মহত্যা” হতে পারেনা। কেননা আত্মহত্যা যদি সব সমস্যার সমাধান হতো, তবে পৃথিবীতে মধ্যবিত্ত বলে কোনো পরিবার থাকতো না। সবগুলো পরিবার-ই আত্মহত্যা করে দূর্বিষহ জীবন থেকে মুক্ত করে নিতো নিজেকে। আসলে চাইলেই এ সুন্দর জীবনটাকে নষ্ট করে দেয়া যায় না। জীবনের মায়া, বড় মায়া। এ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউ সহজে যেতে চায় না। সবাই চায় আরো ক’দিন বেশি বাঁচতে। তাহলে কতটা বিভীষীকার কাতারে দাঁড়ালে একজন মানুষ তার নিজের জীবনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে? একবারও কি এ কথা কারো মাথায় আসে? এরচেয়ে বরং জীবনকে সাজানোর চেষ্টা কর। ব্যর্থ হওয়া সময়গুলোকে জীবন থেকে মুছে নতুন করে বাঁচার পরিকল্পনা কর। দেখবে, কষ্ট সব নিমিষেই হজম হয়ে যাবে। তোমায় বাঁচতে হবে, সেই দিনটা দেখার জন্য যেদিন তোমায় নিয়ে সকলে গর্ব করবে। অন্তত সেই দিনটা দেখার জন্য হলেও তোমায় বাঁচতে হবে যেদিন স্বয়ং মৃত্যুও তোমার হাসিমুখ দেখে লজ্জা পাবে। আর যদি তা না চাও, তবে তুমি মারাই যাও। পৃথিবীতে তুমি আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই না। চলবে…